Wednesday, 14 December 2011

মধ্য মধ্যবিত্ত

এই সমাজে ভদ্র মাঝে
      বলতে আমার একটু বাধে
অবস্থানটা একটু জটিল
      বোঝানোটা একটু কঠিন।


  চেষ্টা করবো সাধ্যমত
  
উপরে আমার মধ্যবিত্ত,
  নিচে, নিম্ন মধ্যবিত্ত।
কারো মালিক, কারো ভৃত্য।



শুরুতে, খাওয়ার ঘরের গল্প শোনাই
 কেমন করে মাছ ভাত খাই।

থালার একটা দিকে মাছটা রাখি
ঝোলটা দিয়ে পুরো ভাতটা মাখি
হঠাৎ দেখি মধ্যভাগে
  মাছ আছে আর একটু বাকি
তাই কায়দা করে গ্রাসটা সাজাই
 ভাতটা উঠাই, মাছটা বাঁচাই
   শেষ খাবলে মাছটা খাবো
  খাওয়ার শেষে শান্তি পাবো।

আমি খাদ্যাভাবে উপবাসী
        বলছি মুখে একাদশী
আরও আছে গুরু শনি
    নিয়ম করে নিরাম মানি।

   ঘরের কোনে সত্যনারায়ণ
 উপরে বারণ, মাটিতে শয়ন।
   শয্যা ঘিরে নেই মশারী
আমি মশার সাথে আপোষ করি।

  খাওয়ার জন্য মুরগি পুষি
  মুরগি বিকে খাচ্ছি ভুষি

   একটু করে পয়সা জমাই
  মাসের শেষে এইতো কামাই
 মেয়ের বিয়ের বাজলো সানাই
  পয়সা শেষে নিলো জামাই।

মধ্যে মধ্যে একটু ভাবি
     দেখতে যাবো হিন্দি ছবি
 
এরই মাঝে কখনো রাতে
    কাজের শেষে ফেরার পথে 

চলছে কোনো যাত্রা পালা
  পুষিয়ে যাওয়ায় পালটা তোলা
বাইরে থেকেই শেষটা দেখি
   হিন্দি ছবি ভাবতে থাকি..

কখনো বা বউয়ের মনে

          জমে থাকা ইচ্ছা গুলি
  উঠে আসে অসাবধানে

       শোনো তারই একটা বলি,


বলে, ওগো শুনছ, চল না
 একদিন রেস্টুরেন্টে খেলে হয়না?
  চমকে.. দুজনে দুজনায় দেখি
 প্রায় একই সঙ্গে বলতে থাকি
না না, আমি বাইরে খাই না।

Sunday, 4 December 2011

দূরে দাঁড়িয়ে দেখাই ভালো

      দূরে দাঁড়িয়ে দেখাই ভালো

আজ অনেক পথ পেরিয়ে, অনেক ভেবে চিন্তে
অবশেষে নিশ্চিন্ত, পারিয়া সে পথ চিনতে।

আগে যখনই চেয়েছি খেলতে
          চেয়েছি একটু ডানা মেলতে
পেরেছি খেলতে যত না
       পেয়েছি তার থেকে বেশি যাতনা।
   তাই ভেবেছি এ খেলা আর না
    খেলা দাঁড়িয়ে দেখাই ভালো।


ক্ষুধা যখনই এসেছে মনে
             গিয়েছি খাদ্য অন্বেষণে।
হয়তো একটু ক্ষুধা মিটল,
অমনি -
কে কত খাবে, কার কি পাওনা
          তার হাজার হিসাব চলল।

এদিকে ছিল আর যত আর্ত
             যারা থেকে গেল ক্ষুধার্ত
মনের খিদা মিটলেও
               হৃদয় রইলো অপবিত্র।

যদিও আজও ক্ষুধা লাগে মনে
                   তবু করেছি সঙ্কল্প
খাবো সবার খাওয়ার শেষে
            যদি পড়ে থাকে কিছু অল্প।
না পাইলে কিছু খাদ্য, হয়তো একটু কষ্ট হল
     তবু কাড়াকাড়িতে আর না
     ক্ষুধায় কষ্ট পাওয়াই ভালো।


সেদিন চেয়েছি ভালবাসতে
             ছুটেছি তোমার কাছে আসতে
ভেবেছি আমার যেমন ভালবাসা
           আমায় তেমনি তুমি ভালোবাসো।
     শীঘ্রই সব ভ্রম দূর হল
এখানে সবই দেওয়া নেওয়া
                    সবই চাওয়া পাওয়া।
যখনই মনে হল হলে মন্দ না
              তখনই শোনালে যত গঞ্জনা।
দিয়েছি মনকে সান্ত্বনা
             মন আগে এত কিছু জানতোনা
      মনে পরাধীনতার যন্ত্রণা।


       যদিও এ মন তৃপ্ত না
     তবু এই লীলা খেলা আর না
      ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছে আর না
      আর স্পষ্ট হচ্ছে আর না
     এখানে আর না খেলাই ভালো।


      যখনই হয়েছে ঊর্ধ্বে ওঠার বাসনা
     তাড়াতাড়ি করে করেছি সবে সূচনা
দেখি চলার শুরুতে পথের শুরু যেথা
         যত হানাহানি আর টানাটানি চলে সেথা।
দিনে হারিয়ে ফেলেছি আপনাকে পথ মাঝে
           তব হিংসা মম শরীরেই খাঁজে খাঁজে।
যতবার হারাতে চেয়েছি একে ওকে আর তাকে
            ততবারই আমি হারিয়েছি আপনাকে।

সেদিন হঠাৎ দেখি পথ মাঝে আমি একা
নেই ভালোবাসা, শূন্য হৃদয়, পথ একেবারে ফাঁকা।

উপরে উঠতে যাদের ঠেলেছি নিচেতে
      আজ পড়িমরি করে ছুটেছি তাদেরই কাছেতে।
যারা উঠছ ওঠো, কি আর আসলো গেল
        আমি পড়েই আছি, তুমি অকারণে ঠেল।
আর ঠেলাঠেলিতে লাভ নাই
            আমার উপরে যাওয়াতে কাজ নাই।
      তুমি চলছ চল, পাখনা মেল
        নিচে দাঁড়িয়ে দেখাই ভালো।

Saturday, 26 November 2011

η > 100%

জগতে এমন কিছু আছে কি
               যা শতকরা একশোর বেশি?

আমি অনেক দেখেছি পৃথিবী খুঁজে
       সবই দেওয়া নেওয়া, খোয়া যায় মাঝে
কাগজে কলমে কষি রাত দিন
পাওয়া যায়নি perpetual machine.

সেদিন চলার পথে চক্ষু নামাই, হিসাব করি, অঙ্ক কষি
স্পষ্ট দেখি একশোর বেশি, হচ্ছে ওদের efficiency.

     ওরা খাচ্ছে কম, কাজ করছে বেশি।

রাত দিন যারা রিক্সা চালায়
             যারা রোজ আনে রোজ খায়
আর যত আছে কাজের মাসি
          কুমোর, কামার, সবজি চাষী।


এরা এইতো দেখি খায়
               এতো শক্তি কোথায় পায়!!


দেখো সকাল থেকে উঠে
          যত দিনমজুর আর মুটে
                  কাজ করছে ছুটে ছুটে
এদের কইটুকু আর জোটে?!


পায়নি এরা মুরগি খাসি
হয়নি কোন মাংস পেশি
সকাল বেলার পান্তা বাসি
তাই খেয়ে কাজ করছে বেশি।


এদের যোগান কম,
                    এরা যোগায় বেশি।


Friday, 18 November 2011

"অনেকখানি নষ্ট হয়"

তোমার গাড়ী ভি্নদেশী
         সাইকেলে তে আমি শশী।
আমায় ফেলে এগিয়ে গেলে
        তোমার গতি অনেক বেশী।

তোমার আছে যন্ত্র চাকা
       আর আমার...
         দুদিক চাকা মধ্যে ফাঁকা।

আলতো করে ব্রেকটা মেরে
         হটাৎ করে থামতে পেরে
তুমি কি আর বুঝবে ভালো
          ধরনীর কি খরচা হল?


তোমার সাথে থামতে গিয়ে
         ব্রেকটা যখন কষতে হয়,
            বুঝতে পারি নষ্ট হয়
আবার গতি তুলতে গিয়ে
            যখন দেখি কষ্ট হয়।

Saturday, 12 November 2011

আদিম প্রভাত

সভ্যতার আলো রাতের তারাকে করে ম্লান
 নতুন সে আলোর কত রঙ আর ধরন।
আর সকাল হয় যে আদিম তারার আলোয়
       তার একটাই রকম।
    তবু সে আলো সবথেকে দিপ্ত,
        সবচেয়ে নরম।

Tuesday, 8 November 2011

অনিল ভাই online

আমাদের এই কলকাতাতে
সুদুর সেই অন্ধ্র হতে
এসেছিলে এই শহরে

গবেষণা করার তরে

দেখলে হেথায় মানুষগুলো
বেশির ভাগই ছদ্মবেশী
এই শহরের রাস্তাগুলো
মোদের থেকে চিনলে বেশি

শহরেরই আরেক ধারে
এক যে ছিল এলোকেশী
মনের ভাষা বুঝতে গিয়ে
শিখলে ভাষা বাংলাদেশী

ধৈর্য্য ছিল অশেষ তোমার
আসলে কুমার, গেলেও কুমার
খুশির খবর এই মাঘেতে
বিয়ের সানাই বাজবে এবার

তুমি lab এর  মধ্যে অনিল ভাই
শেখালে মোদের anneal তাই
স্পষ্টবাদী, নেইকো গরব
আর, instrumentএ-, তুমি গজব

খাওয়ার ধরন একটু তফা

বদলে ফেলা যায় কি হটাৎ?
ডিম খাও, সেটা নিরামিষ
তবে, you don't entertain fish
টক ঝালেতে তোমার প্রীতি
দক্ষিণীদের এটাই রীতি

তুমি নির্মল, তুমিই অরূপ
ভূমির ইন্দ্র তোমার স্বরূপ
রইলো আশা তোমার পরে
ফিরবে বিদেশ বিজয় করে


সবকিছুতেই লজিক খোঁজো
সমঝে চল দেশের আইন
বিপদ আপদ পেলাম পাশে
যেন পরেও পাই online