Thursday, 5 April 2012

"উপলব্ধি"

আজ প্রকৃতি বড়ো মনোরম লাগে
এমন এ সাজে দেখিনিতো আগে!!?
সেদিনও খোলা চোখে হেঁটে চলে গেছি
প্রকৃতিও ছিল এরই কাছা কাছি
তবু এত চকচকে আলো কত ঝাপসা লেগেছে!!
পথের প্রাচিরে নিচু দৃষ্টি থেমেছে
সেদিন কত খুঁজেছি, জড়াতে চেয়েছি
মরিচিকা ভ্রমে ভ্রমিয়া মরেছি।
আজ কোথা ছিল এত সুন্দর প্রানে!!
দেখ দেখ চেয়ে ঐ উর্ধ্বগগনে
কত আলো আঁধারেও সব হচ্ছে পৃথক...
দেখ সব জীবনই লাগে সার্থক।

Wednesday, 7 March 2012

একাদশীর রাত, আকাশে একফালি চাঁদ

সেই সবে সকাল হল
নেই মেঘের ছিটে ফোঁটা
আমার আকাশ ঝলমল

         সেদিন প্রথম দেখা হল
         তখন তোমার বয়স ষোল
         হল সকাল টলমল।


জীবনে ঘোর ব্রহ্মচর্য
তখন মধ্যগগনে সূর্য
ফুটছে শৌর্য বীর্য

         নিয়ে ভরাট সৌন্দর্য
         তুমি রূপের কলসী ভরছো
         আমি হারিয়ে ফেলেছি ধৈর্য।


সবে স্বাধীন হব ভাবছি
চোখে পড়েনি কোনের মেঘ
শরীরে দ্বিপ্রহরের তেজ

         তোমার পটল চেরা নয়ন
         তার হৃদয় চোরা চাহন
         আমায় করল সম্মোহন।


ক্রমে আঁধার হল দিন
আকাশ ঢাকল মেঘে
আমি হয়েছি পরাধীন

         আজ সাঁঝের বেলা বসে
         ভাবি কেমনে এখানে এসে
         তুমি বেঁধেছ মায়ার বেশে।


আমি বেশতো ছিলাম ভালো
 সেদিন পূর্ণিমার রাত
ভরা স্নিগ্ধ চাঁদের আলো

         তখনি বললে ঘরে চল
         দেখে তোমার চুল এলো
         আমার আকাশ ঢেকে গেল।


আমি বেশতো ছিলাম ভালো
 সেদিন অমাবস্যার রাত
আমার রাত্রি ছিল কালো

        তখনি তুমি কাছে এলে
        তোমার রূপের আলো জ্বেলে
        আমার রাত্রি গেল চলে।


বেশ আসছিল এক পদ্য
 সেদিন একাদশীর রাত
আকাশে একফালি এক চাঁদ

       তুমি বললে এসো সদ্য
       শুনে তোমার হিসেব ফর্দ
       আমার পদ্য হল গদ্য।

Saturday, 25 February 2012

নির্লিপ্ত

আজ ক্রুদ্ধ হই না
  মন পুলকিত না
 আর দুঃখ পাই না
  সুখ, খুঁজে ফিরি না

তবু আমি বোবা না
খালি বসে থাকি না            
  এমনও তো না
 হাঁসালে হাঁসি না!


            আমি জীবন পথিক
            জানি পথ আছে ঠিক
              চলি ধির স্হির

              পথে আমি নির্ভিক


             তবু দেখি চারিদিক
             কি সঠিক বেঠিক
             দেখে ফেলি পা টা
            যদি পড়ে থাকে কাঁটা।


আমি বাজারেতে যাই
 কোন দর দাম নাই
আর দেখিনা তা চেখে
  যে যা দেয় দেখে


 তবু বলি একবার
যদি দোষ দেখি তার
কান খোলা রেখে যাই
ঠিক দাম জানি তাই।


           আজ রঙে নড়ি না
          কিছু কামনা করি না
           পথে মনে হয় একা
         কিছু ছায়া আঁকা বাঁকা

          তবু চোখ খোলা থাকে
          যা থাকে চোখে ঢোকে
          যত লাল নীল আলো
          রঙ চেনা থাকা ভালো।


মধু ভালো লাগে না
ঘ্রানে আমোদিত না
  এ যেন অদ্ভুত
কিছু সাদা কালো ভুত

তবু ছবি এসে ঢোকে
তুমি দেখ আড় চোখে
জানি, মধু লাগে মিঠা
কোন কোন মধু, তিতা।


          জেনো আমি ভিত নয়
             অস্হির চিত নয়
               নেই মৃত্যুতে ভয়
                 আমি মৃতুঞ্জয়

           তবু মনে হবে ভিত
           আমি অস্হির চিত
           যদি দেখি শুধু ক্ষতি
           আমি রনে দিই ইতি। 


না না তুমি ভেবো না
 আমি দুঃখিত না
 রঙে নড়ি চড়ি না
 কিছু অনুভূত না

তবু সাড়া দিতে হয়
 যদি আলোড়ন হয়
 এ যেন অভিনয়
শুধু করে যেতে হয়


তার খেলা খেলে যাই,
                কোন হার জিত নাই।

Tuesday, 24 January 2012

"খবর"

বাড়ছে জীবনের মান, উৎকর্ষ
        এখন উন্নতিশীল ভারতবর্ষ।

সকাল বেলা চুমুক চায়ে,
            খবর কাগজ সঙ্গে নিয়ে
শেষের থেকে খবর দেখি
      আমি প্রথম থেকেই একটু মেকী।

শেষের পাতায় ক্রিকেট খেলা
         চাঁদের হাটে তারার মেলা
বাজছে ভেঁপু বাজছে গীটার
       ঈশান কোনে চিয়ার লিডার।


তবু এই পাতাটা সবচে ভালো
      ঠিক থাকে কে ক গোল দিলো
জনশক্তি হোক বা মর্তমান
         স্কোর বোর্ডেতে একই রান
এখান থেকে সামনে চল
কালো হচ্ছে সাদা, সাদা হচ্ছে কালো।

সাতের পাতায় বিজ্ঞাপন
           ঠান্ডা পানি, স্যারিডন।

আর কিছু থাকে ভগ্নাংশ
              ১ ম পাতা ক্রমশ...

ছয়ের পাতায় সম্পাদকী
    বিষয় রাজনিতী কি,
                    সাম্প্রদায়িকী
এখানে শুধু কায়দা ভাঁজা
           এড্রিনালিন শব্দ সাজা
বিষয় একই, জায়গা একই
শুধু বদলে গেছে font টা
          আর বিশ্লেষকের মনটা
  তাই উল্টে conclusion টা।
এই রঙের বদল, তুলির আদল
মন বুঝল কেমন কোনটা আশল!!

পাঁচের পাতায় বিজ্ঞাপন
        আসছে এবার তৃতীয় ডন
নতুন এসেছে F One
special release Ra One

চারের পাতায় একটু থামি
      বাঃ, GDP টা ঊর্ধবগামী
নিচের দিকে একটু নামি
           সব জ্বালানি হচ্ছে দামী

তিনের পাতায় আর একটু থামি
         নাইট ক্লাবে মডেল নামী
এসব দেখে চক্ষু ভিত
          নিচের দিকটা উত্তেজিত

দুয়ের পাতাই নুসন্ধান
     কখন সিরিয়াল, কখন গান
আর কিছু থাকে জটাধারী
       তারাই তোমার গুন বিচারী!
লম্বা, সরু তিলক সহ
            হাতের মাঝে শনি গ্রহ!
আবছা দেখায়, চোখটা বোলাই
      তৃতীয় পাতার রেশটা কাটাই।

সবার শেষে প্রথম পাতা
        এই পাতাটা সবচে যাতা
চারিদিকে দুর্ঘটনা--
রেল অবরোধ, বাস অবরোধ
কেউ শিল্প চায় না, কেউ চাষ না।
নামছে পথে বুদ্ধিজ়িবী
            মরছে কেন বায়ুজ়িবী?
আর যত ছিল মানি গুনি
            ঘুরছে কেন দাগী খুনী?

ঠাৎ হঠাৎ বদলে দেব
         বদল হলেই বদলা নেব
ঠাৎ কিছুই হয়না বদল
        মনেই যদি পথের খোঁদল
শুধু বদলে গেলে রংটা জামার
         নামটা রমাকান্ত কামার।

নিচের দিকে ছোট্ট করে
        খবর আছে আরেক খানি
সকাল বেলা পড়তে গিয়ে
         হয়েছে কার শ্লীলতাহানী
মন্রী গেছে তার বাড়িতে
         ইনসেটে তার ছবিখানি
এসব দেখে হয় ভীষন গ্লানী
তাই এই পাতাতে চোখ বোলাতে
         সময় রাখি একটু খানি।।