Friday, 4 January 2013

তারা কোন প্রশ্ন করেনি

তারা কোন প্রশ্ন করেনি।
মুখ বন্ধ রেখে ছুটে চলেছে।
জন্মেই ছোটা শুরু, যেন
মানুষরুপী পশুর জন্ম হয়েছে।
যেমন করে বকনা বাছুরটা জন্মেই ছোটা শুরু করে বিনা বস্ত্রে,
শাবকটির মুখ থেকে কেড়ে নেওয়া হয় মাতৃদুগ্ধ।
যেমন সেখানে কেউ বলে না "এ তোমার জন্মগত অধিকার"।
তার শিশুদের বেলাতেও কেউ বলেনা "খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা তোমার অধিকার"।

তাদের মুখে তোলা মন্থনের উত্তেজনায় প্রত্যহ মন্থিত হয়েছে পৃথিবীর দুগ্ধ। তবু সে দুধের
স্বাদ তারা পায়নি। শীর্ন শরীর নিয়ে, সর্বশক্তি দিয়ে, ছিড়তে চেয়েছে দড়ি --
হায়-- এতো শক্তি কোথায়। শুধু নিষৃত হয়েছে তঞ্চিত ইচ্ছা।

তবু প্রশ্ন করেনি, অভিমান হয়নি
এ কিসের জীবন যন্ত্রনা, জানতে চায়নি।
কি আছে জিবনের মানে, তার জীবনের মূল্য কোথায়?
শুধুই কবির মনে শব্দ আনায়?!!
 
এ ধরনীর বুকে জন্ম নিয়েছো কিসের ইচ্ছা পুরন করতে?
দিনে দিনে শোষিত হয়েছে তোমার দেহের রস।
খন্ডিত হয়েছে দেহমন, ভগ্নিত হয়েছে হৃদয়।
কখনো মাতৃহারা, কখনো ত্যাজিত মাতা হয়ে
ছুটে চলেছো যেন এক পূর্বনির্দিষ্ট পথে।
কখনো প্রশ্ন আসেনা--!

বইছো কিসের জীবন তরী?
যেন শত সহস্র জন্ম ধরে
কোন মহাপুরুষের আসার তরে
করছো রাস্তা তৈ্রী।

পথের শুরুতে জন্মলও
পথের মাঝে চলতে গিয়ে
পথেই আঁচল বেঁধে নাও
পথ ই সাজ ঘর,
পথ ই শয্যা ঘর
মৃত্যু পথের পর।

Thursday, 5 April 2012

"উপলব্ধি"

আজ প্রকৃতি বড়ো মনোরম লাগে
এমন এ সাজে দেখিনিতো আগে!!?
সেদিনও খোলা চোখে হেঁটে চলে গেছি
প্রকৃতিও ছিল এরই কাছা কাছি
তবু এত চকচকে আলো কত ঝাপসা লেগেছে!!
পথের প্রাচিরে নিচু দৃষ্টি থেমেছে
সেদিন কত খুঁজেছি, জড়াতে চেয়েছি
মরিচিকা ভ্রমে ভ্রমিয়া মরেছি।
আজ কোথা ছিল এত সুন্দর প্রানে!!
দেখ দেখ চেয়ে ঐ উর্ধ্বগগনে
কত আলো আঁধারেও সব হচ্ছে পৃথক...
দেখ সব জীবনই লাগে সার্থক।

Wednesday, 7 March 2012

একাদশীর রাত, আকাশে একফালি চাঁদ

সেই সবে সকাল হল
নেই মেঘের ছিটে ফোঁটা
আমার আকাশ ঝলমল

         সেদিন প্রথম দেখা হল
         তখন তোমার বয়স ষোল
         হল সকাল টলমল।


জীবনে ঘোর ব্রহ্মচর্য
তখন মধ্যগগনে সূর্য
ফুটছে শৌর্য বীর্য

         নিয়ে ভরাট সৌন্দর্য
         তুমি রূপের কলসী ভরছো
         আমি হারিয়ে ফেলেছি ধৈর্য।


সবে স্বাধীন হব ভাবছি
চোখে পড়েনি কোনের মেঘ
শরীরে দ্বিপ্রহরের তেজ

         তোমার পটল চেরা নয়ন
         তার হৃদয় চোরা চাহন
         আমায় করল সম্মোহন।


ক্রমে আঁধার হল দিন
আকাশ ঢাকল মেঘে
আমি হয়েছি পরাধীন

         আজ সাঁঝের বেলা বসে
         ভাবি কেমনে এখানে এসে
         তুমি বেঁধেছ মায়ার বেশে।


আমি বেশতো ছিলাম ভালো
 সেদিন পূর্ণিমার রাত
ভরা স্নিগ্ধ চাঁদের আলো

         তখনি বললে ঘরে চল
         দেখে তোমার চুল এলো
         আমার আকাশ ঢেকে গেল।


আমি বেশতো ছিলাম ভালো
 সেদিন অমাবস্যার রাত
আমার রাত্রি ছিল কালো

        তখনি তুমি কাছে এলে
        তোমার রূপের আলো জ্বেলে
        আমার রাত্রি গেল চলে।


বেশ আসছিল এক পদ্য
 সেদিন একাদশীর রাত
আকাশে একফালি এক চাঁদ

       তুমি বললে এসো সদ্য
       শুনে তোমার হিসেব ফর্দ
       আমার পদ্য হল গদ্য।

Saturday, 25 February 2012

নির্লিপ্ত

আজ ক্রুদ্ধ হই না
  মন পুলকিত না
 আর দুঃখ পাই না
  সুখ, খুঁজে ফিরি না

তবু আমি বোবা না
খালি বসে থাকি না            
  এমনও তো না
 হাঁসালে হাঁসি না!


            আমি জীবন পথিক
            জানি পথ আছে ঠিক
              চলি ধির স্হির

              পথে আমি নির্ভিক


             তবু দেখি চারিদিক
             কি সঠিক বেঠিক
             দেখে ফেলি পা টা
            যদি পড়ে থাকে কাঁটা।


আমি বাজারেতে যাই
 কোন দর দাম নাই
আর দেখিনা তা চেখে
  যে যা দেয় দেখে


 তবু বলি একবার
যদি দোষ দেখি তার
কান খোলা রেখে যাই
ঠিক দাম জানি তাই।


           আজ রঙে নড়ি না
          কিছু কামনা করি না
           পথে মনে হয় একা
         কিছু ছায়া আঁকা বাঁকা

          তবু চোখ খোলা থাকে
          যা থাকে চোখে ঢোকে
          যত লাল নীল আলো
          রঙ চেনা থাকা ভালো।


মধু ভালো লাগে না
ঘ্রানে আমোদিত না
  এ যেন অদ্ভুত
কিছু সাদা কালো ভুত

তবু ছবি এসে ঢোকে
তুমি দেখ আড় চোখে
জানি, মধু লাগে মিঠা
কোন কোন মধু, তিতা।


          জেনো আমি ভিত নয়
             অস্হির চিত নয়
               নেই মৃত্যুতে ভয়
                 আমি মৃতুঞ্জয়

           তবু মনে হবে ভিত
           আমি অস্হির চিত
           যদি দেখি শুধু ক্ষতি
           আমি রনে দিই ইতি। 


না না তুমি ভেবো না
 আমি দুঃখিত না
 রঙে নড়ি চড়ি না
 কিছু অনুভূত না

তবু সাড়া দিতে হয়
 যদি আলোড়ন হয়
 এ যেন অভিনয়
শুধু করে যেতে হয়


তার খেলা খেলে যাই,
                কোন হার জিত নাই।

Tuesday, 24 January 2012

"খবর"

বাড়ছে জীবনের মান, উৎকর্ষ
        এখন উন্নতিশীল ভারতবর্ষ।

সকাল বেলা চুমুক চায়ে,
            খবর কাগজ সঙ্গে নিয়ে
শেষের থেকে খবর দেখি
      আমি প্রথম থেকেই একটু মেকী।

শেষের পাতায় ক্রিকেট খেলা
         চাঁদের হাটে তারার মেলা
বাজছে ভেঁপু বাজছে গীটার
       ঈশান কোনে চিয়ার লিডার।


তবু এই পাতাটা সবচে ভালো
      ঠিক থাকে কে ক গোল দিলো
জনশক্তি হোক বা মর্তমান
         স্কোর বোর্ডেতে একই রান
এখান থেকে সামনে চল
কালো হচ্ছে সাদা, সাদা হচ্ছে কালো।

সাতের পাতায় বিজ্ঞাপন
           ঠান্ডা পানি, স্যারিডন।

আর কিছু থাকে ভগ্নাংশ
              ১ ম পাতা ক্রমশ...

ছয়ের পাতায় সম্পাদকী
    বিষয় রাজনিতী কি,
                    সাম্প্রদায়িকী
এখানে শুধু কায়দা ভাঁজা
           এড্রিনালিন শব্দ সাজা
বিষয় একই, জায়গা একই
শুধু বদলে গেছে font টা
          আর বিশ্লেষকের মনটা
  তাই উল্টে conclusion টা।
এই রঙের বদল, তুলির আদল
মন বুঝল কেমন কোনটা আশল!!

পাঁচের পাতায় বিজ্ঞাপন
        আসছে এবার তৃতীয় ডন
নতুন এসেছে F One
special release Ra One

চারের পাতায় একটু থামি
      বাঃ, GDP টা ঊর্ধবগামী
নিচের দিকে একটু নামি
           সব জ্বালানি হচ্ছে দামী

তিনের পাতায় আর একটু থামি
         নাইট ক্লাবে মডেল নামী
এসব দেখে চক্ষু ভিত
          নিচের দিকটা উত্তেজিত

দুয়ের পাতাই নুসন্ধান
     কখন সিরিয়াল, কখন গান
আর কিছু থাকে জটাধারী
       তারাই তোমার গুন বিচারী!
লম্বা, সরু তিলক সহ
            হাতের মাঝে শনি গ্রহ!
আবছা দেখায়, চোখটা বোলাই
      তৃতীয় পাতার রেশটা কাটাই।

সবার শেষে প্রথম পাতা
        এই পাতাটা সবচে যাতা
চারিদিকে দুর্ঘটনা--
রেল অবরোধ, বাস অবরোধ
কেউ শিল্প চায় না, কেউ চাষ না।
নামছে পথে বুদ্ধিজ়িবী
            মরছে কেন বায়ুজ়িবী?
আর যত ছিল মানি গুনি
            ঘুরছে কেন দাগী খুনী?

ঠাৎ হঠাৎ বদলে দেব
         বদল হলেই বদলা নেব
ঠাৎ কিছুই হয়না বদল
        মনেই যদি পথের খোঁদল
শুধু বদলে গেলে রংটা জামার
         নামটা রমাকান্ত কামার।

নিচের দিকে ছোট্ট করে
        খবর আছে আরেক খানি
সকাল বেলা পড়তে গিয়ে
         হয়েছে কার শ্লীলতাহানী
মন্রী গেছে তার বাড়িতে
         ইনসেটে তার ছবিখানি
এসব দেখে হয় ভীষন গ্লানী
তাই এই পাতাতে চোখ বোলাতে
         সময় রাখি একটু খানি।।

Wednesday, 14 December 2011

মধ্য মধ্যবিত্ত

এই সমাজে ভদ্র মাঝে
      বলতে আমার একটু বাধে
অবস্থানটা একটু জটিল
      বোঝানোটা একটু কঠিন।


  চেষ্টা করবো সাধ্যমত
  
উপরে আমার মধ্যবিত্ত,
  নিচে, নিম্ন মধ্যবিত্ত।
কারো মালিক, কারো ভৃত্য।



শুরুতে, খাওয়ার ঘরের গল্প শোনাই
 কেমন করে মাছ ভাত খাই।

থালার একটা দিকে মাছটা রাখি
ঝোলটা দিয়ে পুরো ভাতটা মাখি
হঠাৎ দেখি মধ্যভাগে
  মাছ আছে আর একটু বাকি
তাই কায়দা করে গ্রাসটা সাজাই
 ভাতটা উঠাই, মাছটা বাঁচাই
   শেষ খাবলে মাছটা খাবো
  খাওয়ার শেষে শান্তি পাবো।

আমি খাদ্যাভাবে উপবাসী
        বলছি মুখে একাদশী
আরও আছে গুরু শনি
    নিয়ম করে নিরাম মানি।

   ঘরের কোনে সত্যনারায়ণ
 উপরে বারণ, মাটিতে শয়ন।
   শয্যা ঘিরে নেই মশারী
আমি মশার সাথে আপোষ করি।

  খাওয়ার জন্য মুরগি পুষি
  মুরগি বিকে খাচ্ছি ভুষি

   একটু করে পয়সা জমাই
  মাসের শেষে এইতো কামাই
 মেয়ের বিয়ের বাজলো সানাই
  পয়সা শেষে নিলো জামাই।

মধ্যে মধ্যে একটু ভাবি
     দেখতে যাবো হিন্দি ছবি
 
এরই মাঝে কখনো রাতে
    কাজের শেষে ফেরার পথে 

চলছে কোনো যাত্রা পালা
  পুষিয়ে যাওয়ায় পালটা তোলা
বাইরে থেকেই শেষটা দেখি
   হিন্দি ছবি ভাবতে থাকি..

কখনো বা বউয়ের মনে

          জমে থাকা ইচ্ছা গুলি
  উঠে আসে অসাবধানে

       শোনো তারই একটা বলি,


বলে, ওগো শুনছ, চল না
 একদিন রেস্টুরেন্টে খেলে হয়না?
  চমকে.. দুজনে দুজনায় দেখি
 প্রায় একই সঙ্গে বলতে থাকি
না না, আমি বাইরে খাই না।

Sunday, 4 December 2011

দূরে দাঁড়িয়ে দেখাই ভালো

      দূরে দাঁড়িয়ে দেখাই ভালো

আজ অনেক পথ পেরিয়ে, অনেক ভেবে চিন্তে
অবশেষে নিশ্চিন্ত, পারিয়া সে পথ চিনতে।

আগে যখনই চেয়েছি খেলতে
          চেয়েছি একটু ডানা মেলতে
পেরেছি খেলতে যত না
       পেয়েছি তার থেকে বেশি যাতনা।
   তাই ভেবেছি এ খেলা আর না
    খেলা দাঁড়িয়ে দেখাই ভালো।


ক্ষুধা যখনই এসেছে মনে
             গিয়েছি খাদ্য অন্বেষণে।
হয়তো একটু ক্ষুধা মিটল,
অমনি -
কে কত খাবে, কার কি পাওনা
          তার হাজার হিসাব চলল।

এদিকে ছিল আর যত আর্ত
             যারা থেকে গেল ক্ষুধার্ত
মনের খিদা মিটলেও
               হৃদয় রইলো অপবিত্র।

যদিও আজও ক্ষুধা লাগে মনে
                   তবু করেছি সঙ্কল্প
খাবো সবার খাওয়ার শেষে
            যদি পড়ে থাকে কিছু অল্প।
না পাইলে কিছু খাদ্য, হয়তো একটু কষ্ট হল
     তবু কাড়াকাড়িতে আর না
     ক্ষুধায় কষ্ট পাওয়াই ভালো।


সেদিন চেয়েছি ভালবাসতে
             ছুটেছি তোমার কাছে আসতে
ভেবেছি আমার যেমন ভালবাসা
           আমায় তেমনি তুমি ভালোবাসো।
     শীঘ্রই সব ভ্রম দূর হল
এখানে সবই দেওয়া নেওয়া
                    সবই চাওয়া পাওয়া।
যখনই মনে হল হলে মন্দ না
              তখনই শোনালে যত গঞ্জনা।
দিয়েছি মনকে সান্ত্বনা
             মন আগে এত কিছু জানতোনা
      মনে পরাধীনতার যন্ত্রণা।


       যদিও এ মন তৃপ্ত না
     তবু এই লীলা খেলা আর না
      ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছে আর না
      আর স্পষ্ট হচ্ছে আর না
     এখানে আর না খেলাই ভালো।


      যখনই হয়েছে ঊর্ধ্বে ওঠার বাসনা
     তাড়াতাড়ি করে করেছি সবে সূচনা
দেখি চলার শুরুতে পথের শুরু যেথা
         যত হানাহানি আর টানাটানি চলে সেথা।
দিনে হারিয়ে ফেলেছি আপনাকে পথ মাঝে
           তব হিংসা মম শরীরেই খাঁজে খাঁজে।
যতবার হারাতে চেয়েছি একে ওকে আর তাকে
            ততবারই আমি হারিয়েছি আপনাকে।

সেদিন হঠাৎ দেখি পথ মাঝে আমি একা
নেই ভালোবাসা, শূন্য হৃদয়, পথ একেবারে ফাঁকা।

উপরে উঠতে যাদের ঠেলেছি নিচেতে
      আজ পড়িমরি করে ছুটেছি তাদেরই কাছেতে।
যারা উঠছ ওঠো, কি আর আসলো গেল
        আমি পড়েই আছি, তুমি অকারণে ঠেল।
আর ঠেলাঠেলিতে লাভ নাই
            আমার উপরে যাওয়াতে কাজ নাই।
      তুমি চলছ চল, পাখনা মেল
        নিচে দাঁড়িয়ে দেখাই ভালো।